বিশ্ববাজারে স্বর্ণের মজুদ ব্যবস্থাপনায় ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একদিকে স্বর্ণের মজুদ কমিয়ে আনছে রাশিয়া ও কাজাখস্তান। অন্যদিকে পোল্যান্ড স্বর্ণ কেনা অব্যাহত রাখছে। রাশিয়ার বিক্রি করা স্বর্ণের বড় ক্রেতা হিসেবে উঠে এসেছে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নাম।

চলতি বছরজুড়েই স্বর্ণের মজুদ কমিয়েছে রাশিয়া। গত সেপ্টেম্বরে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে প্রায় ৬ দশমিক ২ টন স্বর্ণ বিক্রি করা হয়। এছাড়া জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট মজুদ কমেছে প্রায় ৬২ টন। আধুনিক ইতিহাসে এর আগে কেবল একবারই এত দ্রুত স্বর্ণ বিক্রি করেছিল দেশটি।

পোল্যান্ডের মূল্যবান ধাতু প্রতিষ্ঠান মেনিৎসা স্কারবোভার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আদাম স্ত্রোনিয়াভস্কির মতে, ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার বাজেটে বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ানোর প্রয়োজনও বেড়েছে। এ কারণে স্বর্ণ বিক্রি করে অর্থের জোগান বাড়াতে চাইছে দেশটির সরকার।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময় লন্ডনের বাইরের বাজারে স্বর্ণ বিক্রি করছে রাশিয়া। এসব স্বর্ণ মূলত হংকংয়ের বাজারে বিক্রি হয়, যার প্রধান ক্রেতা চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে এ লেনদেনের প্রভাব খুব বেশি পড়ার কথা নয় বলে মনে করেন তিনি।

হংকংয়ের বাণিজ্যসংক্রান্ত তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি-জুলাই পর্যন্ত রাশিয়া থেকে প্রায় ১০০ টন স্বর্ণ হংকংয়ে পৌঁছেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ পরিমাণ প্রায় তিন গুণ।

স্বর্ণ বিক্রি করে মুনাফা তুলতে চায় কাজাখস্তান

রাশিয়ার পাশাপাশি স্বর্ণের মজুদ কমানোর পরিকল্পনায় রয়েছে কাজাখস্তানও। ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে মধ্য এশিয়া ও ইউরোপে অবস্থিত রাষ্ট্রটি ছিল বিশ্বের বড় স্বর্ণ ক্রেতাদের মধ্যে একটি। তবে এখন বছরের শেষ নাগাদ মোট রিজার্ভের ৭৫ শতাংশে স্বর্ণের হিস্যা নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দেশটি। বর্তমানে এ হার প্রায় ৭৮ শতাংশ।

স্ত্রোনিয়াভস্কি বলেন, ‘কাজাখস্তান দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণ কিনেছে। ফলে এখন বিক্রি করলে উল্লেখযোগ্য মুনাফা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে মজুদের অনুপাত ৭৮ থেকে ৭৫ শতাংশে নামানোর পরিকল্পনা এবং ধাপে ধাপে বিক্রির কারণে বিশ্ববাজারে এর প্রভাব সীমিত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

পোল্যান্ড কি স্বর্ণ বিক্রি শুরু করবে?

রাশিয়া ও কাজাখস্তানের সিদ্ধান্তের পর প্রশ্ন উঠেছে, অন্যান্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকও কি স্বর্ণ বিক্রি শুরু করবে? বিশেষ করে পোল্যান্ডের দিকে নজর রয়েছে বাজারসংশ্লিষ্টদের। গত কয়েক বছরে দেশটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্বর্ণ কিনেছে। দাম বেশি থাকায় এখন মজুদের একাংশ বিক্রি করে মুনাফা নেয়ার সুযোগও রয়েছে।

তবে স্ত্রোনিয়াভস্কির মতে, পোল্যান্ডের স্বর্ণ বিক্রির সম্ভাবনা কম। দেশটির সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও এখনই স্বর্ণের মজুদ বিক্রির সম্ভাবনা দেখছেন না তিনি।

পোল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক কয়েক বছর ধরে নিয়মিত স্বর্ণ কিনছে। দেশটির মজুদ এরই মধ্যে ৭০০ টনের লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এ লক্ষ্যে পৌঁছানো মানেই স্বর্ণ কেনা বন্ধ হয়ে যাবে, এমন নয়।

স্বর্ণের বড় মজুদ একটি দেশের ঋণ গ্রহণের সক্ষমতা ও আর্থিক বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে সহায়তা করে। পাশাপাশি মুদ্রার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও ভূমিকা রাখে। বর্তমানে স্বর্ণ মজুদের পরিমাণের দিক থেকে বিশ্বে পোল্যান্ডের অবস্থান দশম। ৭০০ টনের লক্ষ্যে পৌঁছার পরও দেশটি স্বর্ণ কেনা অব্যাহত রাখতে পারে বলে মনে করছেন স্ত্রোনিয়াভস্কি। —ইউরো নিউজ অবলম্বনে