গত বছর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় ক্যাম্পাসে নিহত হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী আফসানা রাখি। মর্মান্তিক এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে অটোরিকশা নিষিদ্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবির মুখে শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অটোরিকশা চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। তবে এতে নতুন সংকট দেখা দেয় শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন যাতায়াতে। উঁচু-নিচু রাস্তায় পায়ে চালানো রিকশায় চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে, অন্যদিকে শাটল সার্ভিসে নির্দিষ্ট সময়সূচির কারণে সবার ক্লাসের সঙ্গে সময় মিলছিল না। তাই ‘জো-বাইক’ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জো-বাইক কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বৈঠক করে ১০০টি বাইক নিয়ে আবারো জাবিতে ফেরার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। গত অক্টোবরে পুনরায় সার্ভিস চালুর কথা থাকলেও নানা কারণে তা হয়ে ওঠেনি। তবে ডিসেম্বরেই পুনরায় জো-বাইক পুরোদমে কার্যক্রম শুরুর কথা জানিয়েছেন জো-বাইকের কর্মকর্তারা।

জাহাঙ্গীরনগরের ২০২৩-২৪ সেশনের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী লামিসা জামান বলেন, ‘অটোরিকশা বন্ধ হয়ে ভালো হয়েছে, তবে যাতায়াতে অনেক সমস্যা দেখা দিয়েছে। হল থেকে ক্লাসরুম অনেকটা দূরে। ফলে যাতায়াতে জো-বাইক ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছি আমরা। যদিও আমরা ক্যাম্পাসে এসে জো-বাইক পাইনি, তবে সিনিয়রদের কাছ থেকে জেনেছি যাতায়াতের ক্ষেত্রে জো-বাইক অনেকটাই কার্যকারী।’

গত বছর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী জো-বাইক পুনরায় চালুর জন্য যৌথভাবে পিটিশন করেন। এর পর থেকেই জো-বাইক কর্তৃপক্ষ চবির স্টেশনগুলো পুনর্নির্মাণ ও সংস্কারকাজ শুরু করেছে। শিগগিরই সেখানেও পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রম শুরু হবে। এছাড়া শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি এরই মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব বিনিয়োগে সার্ভিসটি ফিরিয়ে আনছে। প্রধান ফটক থেকে ক্যাম্পাসের প্রায় এক কিলোমিটার দূরত্বে ভাঙাচোরা রাস্তা, নিয়মিত অটোরিকশার ভিড়, সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীরা জো-বাইকের প্রত্যাবর্তনকে মূল্যবান সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন। শাবিপ্রবির কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ফরিদুর রহমান স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘আমাদের সময়ে জো-বাইক খুব সুবিধাজনক ছিল। পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ক্যাম্পাসে ঢুকলে পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জো-বাইক সে সমস্যা কমিয়ে দিয়েছিল। তবে শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো বাইক স্টেশনে না রেখে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখতেন। সম্ভবত এ দায়িত্বহীনতাই সার্ভিসটি বন্ধ হওয়ার কারণ।’

জো-বাইক দ্রুতই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরো কয়েকটি ক্যাম্পাসে তাদের সার্ভিস পুনরায় চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে জানিয়ে জো-বাইকের হেড অব বিজনেস মো. শাহনেওয়াজ বলেন, ‘কার্বনমুক্ত, সবুজ ও স্মার্ট ক্যাম্পাস গড়ার লক্ষ্য থেকেই জো-বাইকের যাত্রা। শিক্ষার্থীদের মধ্যেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। কিন্তু করোনায় ক্যাম্পাস বন্ধ হওয়া এবং অনেক বাইক হারানোর কারণে আমাদের সার্ভিস বন্ধ করতে হয়। এখন শিক্ষার্থীদের দাবিতে আমরা আবার ফিরছি। এবার অ্যাপ আরো সহজ করা হয়েছে, ব্যবস্থাপনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে কথা হয়েছে। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা আরো দায়িত্বশীলভাবে জো-বাইক ব্যবহার করুক।’