রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রাক্তন ছাত্রী তাসনুভা তাবাসসুম, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করার পর জানতে পারেন, তার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ইনস্টিটিউশনাল ই-মেইল’ প্রদান করে। শুরুতে তিনি বুঝতে পারেননি, এ ই-মেইল শুধু বিভাগীয় যোগাযোগের জন্য নয়, বরং এটি বিশ্বের বিভিন্ন ওয়েবসাইটে বিস্তৃত সুযোগের দরজা খুলে দেয়। একই অভিজ্ঞতা জানালেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকের ছাত্র ফাহাদ হোসাইন। এখনো অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েই শিক্ষার্থীরা এ বিশেষ ই-মেইলের গুরুত্ব জানেন না, তাই তারা ই-মেইল সংগ্রহ করেন না বা তা ব্যবহার করেন না।

বাংলাদেশের পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি থেকে শুরু করে টিউশন ফি, পরীক্ষা ফলাফলের সবকিছু এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ধীরে ধীরে তাদের আইটি অবকাঠামো শক্তিশালী করছে, আর এ আধুনিকীকরণের অংশ হিসেবে বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ইনস্টিটিউশনাল ই-মেইল অ্যাকাউন্ট’ তৈরি করার সুবিধা প্রদান করছে। এ ই-মেইল ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করতে পারেন, গবেষণাসহ বিভিন্ন ওয়েবসাইট বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারেন। এমনকি অনলাইনে থাকা বিভিন্ন লাইব্রেরিতে বিনামূল্যে প্রবেশ করতে পারেন।

শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, সৃজনশীলতা ও গবেষণার ক্ষেত্রে উৎসাহিত করার জন্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্লাটফর্ম বিশেষ সুযোগ প্রদান করছে। গুগল জেমিনি ও ক্লাউড স্টোরেজ শিক্ষার্থীদের জন্য এক বছরের ফ্রি সাবস্ক্রিপশন দিচ্ছে, যা অন্তর্ভুক্ত করে জেমিনি প্রো, নোটবুকএলএম, গুগল ড্রাইভে দুই টেরাবাইট স্টোরেজ। এছাড়া অ্যাডোবি ক্রিয়েটিভ ক্লাউডে ২০টির বেশি প্রফেশনাল অ্যাপ্লিকেশন যেমন ফটোশপ, ইলাস্ট্রেশন. প্রিমিয়াম প্রো, আফটার ইফেক্ট, লাইটরুম অন্তর্ভুক্ত, শিক্ষার্থীদের জন্য মাত্র ২ হাজার ৪০০ টাকায় প্রতি মাসে পাওয়া যায়। এ প্লাটফর্মগুলো শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট, ক্লাসরুম প্রকল্প, ডিজাইনের কাজ এবং বিভিন্ন একাডেমিক ও সৃজনশীল কাজের জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এছাড়া জনপ্রিয় প্লাটফর্ম ক্যানভা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রো ভার্সন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দিচ্ছে। শিক্ষার্থীরা এটি ব্যবহার করে গ্র্যাফিকস, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন ও অন্যান্য কাজ করতে পারেন কোনো খরচ ছাড়াই।

গুগল ক্লাউড শিক্ষা প্রোগ্রামের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ক্রেডিট গুগল ল্যাবে প্রবেশ করতে পারেন, যা বাস্তব সময়ের ‘হ্যান্ডস অন’ অভিজ্ঞতা দেয়, যেমন ইনফ্রাস্ট্রাকচার, মেশিন লার্নিং এপিআই এবং কম্পিউট রিসোর্সে কাজ করা। শুধু টিউটোরিয়াল দেখার পরিবর্তে শিক্ষার্থীরা বাস্তব জগতের ক্লাউড প্রজেক্ট তৈরি, অ্যাপ্লিকেশন ডিপ্লয় করা, ডাটা বিশ্লেষণ এবং ছোট মেশিন লার্নিং মডেল প্রশিক্ষণ করতে পারেন। সব কাজ ক্রেডিটের মাধ্যমে খরচ ছাড়া করা সম্ভব। ‘ওপেনএআই’ শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ প্রমোশন চালু করেছে। ইনস্টিটিউশনাল মেইল দিয়ে প্রবেশ করলে শিক্ষার্থীরা ‘চ্যাটজিপিটি প্লাস’ বিশেষ ছাড়ে উপভোগ করতে পারেন, যা ‘জিপিটি ৪’ স্তরের মডেল এবং অন্যান্য প্রিমিয়াম ফিচার ব্যবহারের অনুমতি দেবে। নতুন ‘স্টাডি মোড’ ফিচার শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের মাধ্যমে শেখার সুযোগ দেয়, কেবল উত্তর পাওয়ার পরিবর্তে চিন্তাশীল শেখার প্রক্রিয়াকে উৎসাহিত করে। এছাড়া লিংকডইন লার্নিং, কোর্সসেরা, অটোডেস্কের মতো প্লাটফর্মও শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধা প্রদান করে, যা তাদের পেশাগত দক্ষতা, সার্টিফিকেশন ও বিশ্বমানের সফটওয়্যারে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দেয়। এর জন্য শুধু প্রয়োজন স্টুডেন্ট মেইল, যা দিয়ে এসব ওয়েবসাইটে প্রবেশ করবেন শিক্ষার্থীরা।

শুধু বিভিন্ন প্লাটফর্মই নয়, শিক্ষার্থীরা অনলাইন লাইব্রেরি ও রিসার্চ রেপোজিটরিও বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারবেন এ মেইলের মাধ্যমে। যেখানে শিক্ষার্থীরা বিস্তৃত গবেষণাপত্র, জার্নাল এবং একাডেমিক বিভিন্ন বই খুঁজে পেতে পারেন, যা তাদের গবেষণা ও পড়াশোনাকে আরো সমৃদ্ধ এবং সহজ করে তুলবে।