বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম উপাদান কবিতা, গল্প ও উপন্যাসে বিভিন্ন রূপে ও ভাবে ফুটে উঠেছে, যা সাহিত্যবোধ ও জীবন সম্পর্কে সচেতন করে; জীবনে দান করে নতুনত্বের গভীর উপলব্ধি। নিজের সম্পর্কেও উপলব্ধি জন্মে সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমের ভেতর দিয়ে, যা শুধু বাংলা ভাষা ও সাহিত্য পাঠেই সম্ভব। বাঙালি হিসেবে নিজের অস্তিত্বকে ধারণ ও লালন করার জন্য বাংলা ভাষা ও সাহিত্য পাঠ জরুরি।বাংলা ভাষা ও সাহিত্য পাঠের মধ্য দিয়ে আমরা আবহমান বাঙালি সংস্কৃতিচর্চা ও সংরক্ষণ করতে পারি।
একসময় ধারণা করা হতো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মানেই কেবল বিবিএ, কম্পিউটার সায়েন্স কিংবা ইংরেজির দাপট। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ ধারণায় পরিবর্তন আসছে। বর্তমান প্রজন্মের অনেক তরুণ-তরুণী এখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও ‘বাংলা ভাষা ও সাহিত্য’ নিয়ে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী হচ্ছেন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণত এমন বিষয়গুলো পড়ানো হয়, যেগুলোর সরাসরি করপোরেট চাহিদা রয়েছে। কিন্তু এর মাঝেও একদল শিক্ষার্থী বাংলা সাহিত্যকে ভালোবেসে এ বিভাগ বেছে নিচ্ছেন।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আউটকাম বেজড এডুকেশন কারিকুলাম মেনে শিক্ষার্থীদের পড়ানো হয়। এ পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীরা সৃজনশীল জ্ঞান লাভ করে এবং ভাষা ও সাহিত্য পাঠের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দক্ষতা ও নিজ যোগ্যতা অর্জন করে। কবিতা, ছোটগল্প, উপন্যাস, বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, প্রাচীন ও মধ্যযুগের কবিতা, বাংলা নাটক, রবীন্দ্রসাহিত্য, নজরুলসাহিত্য, বাংলা প্রবন্ধ, ধ্বনিবিজ্ঞান, ভাষাবিজ্ঞান, পাশ্চাত্য সাহিত্যতত্ত্ব, সাহিত্য সমালোচনার ধারা, রবীন্দ্রনাথের কথাসাহিত্য, বাঙালির ইতিহাস ও সংস্কৃতি, নাটক ও চিত্রনাট্য লেখার কলাকৌশল, আধুনিক বাংলা গদ্যের বিশেষ যুগ, বিশ্বসাহিত্য, পাণ্ডুলিপি পাঠ ও পাঠ সমালোচনা, উপমহাদেশীয় সংগীত ও আবৃত্তি, মনোবিজ্ঞান, লোকসাহিত্য, রম্যসাহিত্য, কম্পিউটার, ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য, তত্ত্ব ও দর্শন ও বাংলা ব্যাকরণ পড়ানো হয়।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য পাঠ-পরবর্তী একজন শিক্ষার্থী স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করার পর বাংলাদেশ এবং ভারতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর গবেষণা করতে পারেন। এছাড়া বাংলা একাডেমিতেও গবেষণার সুযোগ রয়েছে।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে অধ্যয়ন করার পর একজন শিক্ষার্থী বিশেষ করে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ, গবেষণা বা অন্য বিষয়ে অধ্যয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়। এছাড়া নিজ মেধা ও চেষ্টায় অনেকেই সফল হয়ে থাকে।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে পড়ে শুধু শিক্ষকতা নয়, বরং তরুণদের সামনে এখন ক্যারিয়ারের বহুমুখী পথ খোলা। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, অনলাইন পোর্টাল এবং স্বনামধন্য প্রকাশনা সংস্থাগুলোতে দক্ষ সম্পাদনা সহকারী ও সাংবাদিকদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের এ যুগে বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলোতে ক্রিয়েটিভ কপিরাইটার এবং স্ক্রিপ্ট রাইটার হিসেবে বাংলা স্নাতকদের কদর বাড়ছে। গুগল, মাইক্রোসফট বা মেটার মতো বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সেবাকে মাতৃভাষায় রূপান্তর করতে বাংলা ভাষা বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ দিচ্ছে। দেশী-বিদেশী বিভিন্ন সংস্থায় অনুবাদক এবং ভাষার ইতিহাস ও বিবর্তন নিয়ে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার খরচ তুলনামূলক অনেকটাই কম। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে চার বছর মেয়াদি বিএ (সম্মান) ডিগ্রি নিতে ৩ লাখ টাকা খরচ হয়। এক বছর মেয়াদি এমএ কোর্স সম্পন্ন করতে ৫৫ হাজার টাকা খরচ হয়ে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে খরচ কম-বেশি রয়েছে। এর পাশাপাশি মেধা ও ফলের ভিত্তিতে বৃত্তির সুবিধা রয়েছে।
ড. শামস আলদীন:
চেয়ারম্যান, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ, সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়










