সাইকেল চালানোর নিরাপদ ও নির্দিষ্ট জায়গা তৈরি করা সরকারের দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গতকাল চট্টগ্রামের বিমানবন্দর সড়কে বাংলাদেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাকের উদ্বোধন করেন তিনি। এ সময় মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘সাইকেল চালানো শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, এটি সুস্থ থাকার অন্যতম কার্যকর উপায়। বিশ্বের অনেক দেশে মানুষ সাইকেলে করে কর্মস্থলে যাতায়াত করেন। সাইক্লিং পরিবেশবান্ধব ও শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই সাইকেল চালানোর জন্য নিরাপদ ও নির্দিষ্ট জায়গা তৈরি করা নাগরিকদের প্রতি সরকারের দায়িত্বের অংশ।’
মন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রাম নগরীতে সাইকেল চালানো ও হাঁটার সুযোগ বাড়াতে মেয়র যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বিমানবন্দর সড়কের এ সাইকেল ট্র্যাক কেবল শুরু। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে আরো সাইকেল ট্র্যাক ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা প্রয়োজন, যাতে মানুষ শরীরচর্চা, বিনোদন ও দৈনন্দিন চলাচলের জন্য এসব সুবিধা ব্যবহার করতে পারে।’
তিনি আরো বলেন, ‘নাগরিকদের জন্য হাঁটার জায়গা, সাইকেল চালানোর পথ ও উন্মুক্ত পরিসর তৈরি করা কোনো বিলাসিতা নয়, এগুলো মানুষের দৈনন্দিন জীবনের মৌলিক চাহিদার অংশ। মানুষকে ঘরের মধ্যে বন্দি রেখে সুস্থ ও সুন্দর জীবন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই নগরীর খালের দুই পাড়সহ উপযুক্ত জায়গাগুলোতে হাঁটার পথ নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে।’ এ ধরনের নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদেরও নিজ নিজ এলাকায় উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ চট্টগ্রাম নগরীর জন্য একটি গর্বের অর্জন। প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই ট্র্যাকের পাশাপাশি হাঁটার পথ নির্মাণ এবং দুই পাশের সৌন্দর্যবর্ধনে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলগাছ লাগানো হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে সবুজায়ন ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে বিমানবন্দর সড়ককে আরো নান্দনিক করে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।’
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে বাস্তবায়িত এ কর্মসূচিতে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান ও চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম ওয়াসার চেয়ারম্যান ইদ্রিস মিয়া, ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম, চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুল ইসলাম, সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, সাইক্লিস্ট ও রাজনৈতিক নেতারা।
একই দিনে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ তজল্লী আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর চট্টগ্রামের আঞ্চলিক উপপরিচালক মুহাম্মদ ফরিদুল আলম হোসাইনী।
অর্থমন্ত্রী চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষার্থীদের কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য অভিনন্দন জানান।
তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের এ সাফল্যের পেছনে তাদের পরিবার ও অভিভাবকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী একক প্রচেষ্টায় সব অর্জন করতে পারে না; এজন্য পরিবারের সহযোগিতা প্রয়োজন। যে পরিবারে শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ নেই, সেখানে শিক্ষার্থীদের কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জন করা কঠিন। যথাযথ পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার্থীরা আরো ভালো করতে পারে। এক্ষেত্রে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও পরিবারের সদস্যদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
প্রসঙ্গত, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ স্কুলেরই সাবেক শিক্ষার্থী।










