দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারের পেনশন ও সপরিবারে আজীবন চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করতে চাইছে সংস্থাটি। সম্প্রতি এ নিয়ে দুদকের সিনিয়র সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবের কাছে একটি চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে এ-সংক্রান্ত আইনের ধারা উল্লেখ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। 

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে গোলাম রহমান কমিশনের সময় চেয়ারম্যানসহ দুই কমিশনারের জন্য পেনশন সুবিধা চেয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। ওই সময় চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারের পেনশনের কোনো নিয়ম না থাকায় এ বিষয়ে পৃথক আইন করার কথাও বলা হয়েছিল চিঠিতে। তবে সে সময় ওই বিষয়ে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় আবার নতুন করে পেনশন সুবিধা চেয়ে দুদকের পক্ষ থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। 

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো দুদকের সাম্প্রতিক চিঠিতে বলা হয়েছে, দুদক চেয়ারম্যানের বেতন, আর্থিক সুবিধাদি ও পদমর্যাদা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারকের সমরূপ এবং কমিশনারদের বেতন, আর্থিক সুবিধাদি ও পদমর্যাদা সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের সমরূপ নির্ধারণ করা হয়েছে। দুদক আইন, ২০০৪-এর ধারা ৬(৩) অনুযায়ী কমিশনের চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের চাকরির মেয়াদ তাদের যোগদানের তারিখ থেকে পাঁচ বছর। এ মেয়াদ শেষে তাদের পুনর্নিয়োগ লাভের কোনো সুযোগ নেই। উপরন্তু এ আইনের ধারা ৯-এর ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মাবসানের পর তারা প্রজাতন্ত্রের কোনো লাভজনক পদে নিয়োগ লাভেরও যোগ্য থাকেন না। 

চিঠিতে দ্য সুপ্রিম কোর্ট জাজেস অর্ডিন্যান্সের (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজেস) ১৯৭৮-এর ধারা ৫ অনুযায়ী অবসরোত্তর সময়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকদের পেনশন ও আনুতোষিক সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে বলা হয়, আইন অনুযায়ী একজন বিচারকের চাকরি ন্যূনতম পাঁচ বছর হলে তা পেনশনযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। চাকরিকাল বিবেচনায় তা দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের চাকরির মেয়াদের সমান। এ অবস্থায় দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের অবসর জীবন নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্য করার জন্য অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যৌক্তিক বলে মনে করছে কমিশন।

দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের চাকরি পেনশনযোগ্য করার লক্ষ্যে এবং অবসরোত্তর সময়ে তাদের সপরিবারে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে চিঠিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ‘সবিনয় অনুরোধ’ জানানো হয়েছে। 

উল্লেখ্য, সাবেক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান ও কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ শেষে ২০১৬ সালের মার্চে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব ইকবাল মাহমুদকে পাঁচ বছরের জন্য দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ এএফএম আমিনুল ইসলাম। অন্যদিকে ২০১৮ সালের মার্চে দুদকের আরেক কমিশনার নাসিরউদ্দীন আহমেদের মেয়াদ শেষে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক খানকে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। 

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হয় দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রহমানের সঙ্গে। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনাররা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের সমমর্যাদার। সে হিসেবে এ পদের নিয়োগপ্রাপ্তদের পেনশনসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা। দুদক আইনেও বিষয়টির উল্লেখ রয়েছে। আমার সময়ে বিষয়টি উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। যদিও সে সময় বিষয়টি বাস্তবায়ন হয়নি। যেহেতু আইনে বিষয়টি রয়েছে, সেজন্য আমার বিবেচনায় দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের পেনশন সুবিধা পাওয়া যুক্তিসংগত।