চট্টগ্রাম-কুয়ালালামপুর সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এ রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা আছে। চিকিৎসার জন্য মালয়েশিয়াগামী চট্টগ্রাম ও আশপাশ এলাকার রোগীদের যাতায়াত সহজ করতেই এ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার কনসাল জেনারেল ও পিএইচপি মোটরস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আখতার পারভেজ।

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্যসেবা খাতের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে গতকাল চট্টগ্রামে আয়োজিত ‘মালয়েশিয়া হেলথকেয়ার উইক বাংলাদেশ ২০২৬’ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়। রোগীসেবা, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে দুই দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের সম্পর্ক আরো গভীর করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। মালয়েশিয়া হেলথকেয়ার ট্রাভেল কাউন্সিল (এমএইচটিসি) ও দেশটির বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের মধ্যে সম্পর্ক সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

অনুষ্ঠানে কেএল ফার্টিলিটি অ্যান্ড গাইনিকোলজি সেন্টারের গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড হেলথকেয়ার এক্সপানশনের ম্যানেজার সুবাসিনী সুবাস চন্দ্রা, আলফা আইভিএফ অ্যান্ড উইমেন্স স্পেশালিস্টসের রিজিওনাল কমার্শিয়াল ডিরেক্টর এনসিউচিং (ক্যারেন), সেলস অ্যান্ড মার্কেটিংয়ের এক্সিকিউটিভ ইয়াপ জিয়া ইয়ং, আইএইচএইচ হেলথকেয়ার মালয়েশিয়ার সিনিয়র ম্যানেজার কানেশ এএল করুণানিথি, সানওয়ে মেডিকেল সেন্টারের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ডেভেলপমেন্টের প্রতিনিধি লিম ওয়েই য়েই, এমএইচটিসির হেড অব ডেভেলপমেন্টাল মার্কেট হিজামি আইজাত চে হারুনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকরা জানান, চট্টগ্রামে এমএইচটিসির এ ধরনের প্রথম বিশেষ আয়োজন এটি। এর মাধ্যমে মালয়েশিয়ার চিকিৎসা খাতের সক্ষমতা তুলে ধরার পাশাপাশি বাংলাদেশের গণমাধ্যম, স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট ও পেশাজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন এবং দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার চারটি বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এর মধ্যে রয়েছে আলফা ইন্টারন্যাশনাল ফার্টিলিটি সেন্টার, আইএইচএইচ হেলথকেয়ার মালয়েশিয়ার ১৮টি হাসপাতালের নেটওয়ার্ক, কেনাল ফার্টিলিটি অ্যান্ড গাইনোকোলজি সেন্টার ও সানওয়ে মেডিকেল সেন্টার। প্রতিষ্ঠানগুলো প্রজনন ও বন্ধ্যত্ব চিকিৎসা, অনকোলজি, কার্ডিওলজি, নিউরোসায়েন্স, অর্থোপেডিকস, নারী ও শিশু স্বাস্থ্য এবং রোবোটিক সার্জারিসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত সেবা দিয়ে থাকে। এছাড়া আন্তর্জাতিক রোগীদের জন্য ভ্রমণ, আবাসন, যাতায়াত, রোগী সহায়তা ও অনুমোদিত এজেন্টদের সেবার বিষয়ে জানানো হয়।

মোহাম্মদ আখতার পারভেজ বলেন, ‘চট্টগ্রাম-কুয়ালালামপুর সরাসরি বিমান চলাচল চালু হলে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীদের ভ্রমণের সময় কমবে এবং যাতায়াত সহজ হবে। কোনো রোগীর অনুরোধ বা রেফারেন্স নম্বর পেলে আমরা মালয়েশিয়ার হাইকমিশনের সঙ্গে কাজ করে তাকে ভিসা পেতে সহযোগিতা করব।’