চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা ও সংবেদনশীল স্থাপনার সুরক্ষায় অনুমোদন ছাড়া ছবি তোলা, ভিডিও ধারণ ও এসবের প্রচার থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক)। বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সংরক্ষিত এলাকা, নজরদারি সক্ষমতা, স্থাপনার বিন্যাস, পরিচালনসংক্রান্ত তথ্য ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে কোনো ধরনের তথ্য সংগ্রহ ও প্রচারকেও অননুমোদিত হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আজ মঙ্গলবার এ-সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের প্রধান সামুদ্রিক প্রবেশদ্বার এবং জাতীয় অর্থনীতি, আমদানি-রফতানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড ও জাতীয় নিরাপত্তা বিধিমালা অনুসরণকারী বন্দর হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দর ‘জিরো অবজারভেশন’ অর্জন করেছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ ‘কী পয়েন্ট ইনস্টলেশন’ (কেপিআই) হিসেবে বন্দরের নিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২২-এর ৫৫ ধারা অনুযায়ী, বন্দরের সুষ্ঠু পরিচালনা এবং সর্বসাধারণের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে বন্দরসীমার অন্তর্ভুক্ত সব স্থান ও স্থাপনাকে সংরক্ষিত বন্দর এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একই সঙ্গে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট এর বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট সংবেদনশীল স্থান, তথ্য, নকশা, ছবি বা অন্যান্য উপাত্তের অননুমোদিত ধারণ, প্রকাশ বা প্রচার আইনত দণ্ডনীয় হতে পারে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ বলেছে, পূর্বানুমোদন ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, গণমাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যমে বন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা, সংরক্ষিত এলাকা, নজরদারি সক্ষমতা, স্থাপনার বিন্যাস, পরিচালনসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ ও প্রচার সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত এবং তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এ কারণে বন্দরের সংবেদনশীল স্থাপনা, নিরাপত্তাব্যবস্থা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, প্রবেশ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, নজরদারি ব্যবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, জাহাজ ও কার্গো ব্যবস্থাপনাসহ অন্যান্য সংবেদনশীল স্থাপনার অনুমোদিত ফটোগ্রাফি, ভিডিও ধারণ, ফ্রেম ধারণ বা যেকোনো ধরনের দৃশ্যমান তথ্য সংগ্রহ ও প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বন্দর ব্যবহারকারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিরাপত্তা নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালন করতে হবে। অনুমোদনহীন তথ্য প্রকাশ বা প্রচারের মাধ্যমে বন্দরের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন, নিরাপত্তা বিধিমালা ও বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রচলিত নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।










