গতকাল বেলা ২টার দিকে দরিয়ানগর এলাকার সি-স্পোর্টস জোনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শৌভিক খুলনা সদরের বানিয়াখামার এলাকার শেখর রায়ের ছেলে।

জানা গেছে, গতকাল সকালে নয় বন্ধু মিলে কক্সবাজারে বেড়াতে আসেন অক্ষর শৌভিক। বেলা ২টার দিকে তারা দরিয়ানগর এলাকায় প্যারাসেইলিং করতে যান। একপর্যায়ে প্যারাসেইলিং করার সময় তিনি সমুদ্রে ছিটকে পড়ে পানিতে ডুবে যান। পরে তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘নিহত পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। বৈরী পরিবেশে প্যারাসেইলিং পরিচালনা ও পর্যটকের মৃত্যুর বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর পর্যটককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়। তার মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে।’

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সুবক্তগীন মোহাম্মদ সোহেল বলেন, ‘বেলা ২টা ১০ মিনিটে ওই পর্যটককে হাসপাতালে আনা হয়। তবে হাসপাতালে নেয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, মো. ফরিদের মালিকানাধীন দরিয়ানগর এলাকার ওই সি-স্পোর্টস প্রতিষ্ঠানে এর আগেও একাধিকবার দুর্ঘটনা ঘটেছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে প্যারাসেইলিং কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হলেও কয়েকদিন পর তা আবার চালু করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ দুর্ঘটনার পরও সেখানে পর্যটকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

শৌভিকের সঙ্গে বেড়াতে আসা একজন যুবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্যারাসেইলিং থেকে যখন শৌভিক সমুদ্রের পানিতে ছিটকে পড়ছিলেন, তখন উদ্ধারের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। দরিয়ানগরে কোনো লাইফগার্ড চোখে পড়েনি।’