চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে ফেরদৌস শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের ইয়ার্ডে থাকা দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজে স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের উপস্থিতি পেয়েছে বিস্ফোরক অধিদপ্তর। এ বিষাক্ত গ্যাসের কারণেই নয় শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান।

আজ শনিবার সকালে দুর্ঘটনাকবলিত ইয়ার্ড পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন শিল্প সচিব। এ সময় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া, পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, বিস্ফোরক অধিদপ্তরের পরিদর্শক এস এম সাখাওয়াত হোসেন এবং বাংলাদেশ শিপব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) সভাপতি মোহাম্মদ মহসিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শিল্প সচিব বলেন, জাহাজটিতে স্বাভাবিক মাত্রার তুলনায় অতিরিক্ত হাইড্রোজেন সালফাইডের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে শিল্প মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এবং বাংলাদেশ শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং বোর্ডের (বিএসবিআর) পক্ষ থেকে পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একজন অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে ১১ সদস্যের তদন্ত কমিটি, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নয় সদস্যের কমিটি এবং বিএসবিআরের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুর্ঘটনার আগে ও পরে কী ঘটেছিল, কারো অবহেলা বা দায়িত্বে গাফিলতি ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখতে কমিটিগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

সচিব বলেন, তদন্তে কারো অবহেলা বা দায়িত্বে গাফিলতি পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাস বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে নিরাপদে অপসারণ করা হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনায় প্রাণহানি এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে বলেও জানান তিনি।