যন্ত্রাংশ হিসেবে আমদানি করে স্থানীয় গ্যারেজে সংযোজন (অ্যাসেম্বল) করা একটি বিলাসবহুল বিএমডব্লিউ গাড়ি আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। একই সঙ্গে মোংলা বন্দর দিয়েও ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ (ইউজড কার পার্টস) ঘোষণার আড়ালে আনা আরো চারটি বিলাসবহুল গাড়ির চালান জালিয়াতি উদঘাটন করেছে সংস্থাটি।
সিআইআইডি'র চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের তথ্যমতে, চট্টগ্রামে অভিযান চালিয়ে বিএমডব্লিউ গাড়িটি আটক করা হয়। যন্ত্রাংশ হিসেবে আমদানির পর স্থানীয় এক গ্যারেজে এটি পূর্ণাঙ্গ গাড়িতে রূপান্তর করা হয়েছিল। গাড়িটি একটি পুরোনো বিএমডব্লিউ গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে সড়কে চলাচল করছিল।
সিআইআইডি'র চট্টগ্রাম কার্যালয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রেজভী আহমেদ বণিক বার্তাকে চট্টগ্রামে বিএমডব্লিউ গাড়িটি আটকের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে মোংলা বন্দর দিয়ে ‘ইউজড কার পার্টস’ ঘোষণার আড়ালে আনা চারটি বিলাসবহুল গাড়ি মাত্র তিন-চারটি বড় অংশে কেটে এসকেডি অবস্থায় আমদানির জালিয়াতি উদঘাটন করে সিআইআইডি।
শতভাগ কায়িক পরীক্ষা, নম্বর ও লেবেল বিশ্লেষণ এবং বিআরটিএ, কুয়েট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কারিগরি সহায়তায় শনাক্ত করা গাড়িগুলো হলো, ২০১৭ সালের রেঞ্জ রোভার ভোগ, ২০১০ সালের বিএমডব্লিউ ৬৫০আই, ২০১৬ সালের লেক্সাস এলএক্স ৫৭০ এবং একটি টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেট।
সিআইআইডি জানায়, এসব গাড়ির সম্মিলিত সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা। অথচ চালানে শুল্কায়নযোগ্য মূল্য দেখানো হয়েছে মাত্র ৯ লাখ ৯৪ হাজার টাকা।
কাস্টমস নথি অনুযায়ী, চালানের বিল অব এন্ট্রি নম্বর সি-৬৯০৪ (তা২০ এপ্রিল ২০২৬)। ঢাকার গেন্ডারিয়ার ‘ক্রাউন অটো মোবাইল সার্ভিসেস’ চালানটির আমদানিকারক এবং খুলনার ‘এস টি ইন্টারন্যাশনাল’ সিএন্ডএফ এজেন্ট। জাপানের ‘মাহি কার পোর্ট’ থেকে ‘এমভি এমসিসি টোকিও’ জাহাজে ১৪ ধরনের পণ্যের কথা বলে ১৬৪টি প্যাকেজে মোট ১০ হাজার ২২০ কেজি ওজনের চালানটি আনা হয়।
মহাপরিচালকের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সিআইআইডির খুলনা ও মোংলা দল চালান খালাস স্থগিত করে। ১৯ জুলাই কায়িক পরীক্ষায় দেখা যায়, বিচ্ছিন্ন পার্টসের কথা বলা হলেও বাস্তবে ইঞ্জিন, বডি, রুফ কাট প্যানেল ও সাসপেনশনসহ বড় কাঠামোগত অংশ যুক্ত ছিল, যা পুনর্সংযোজনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ গাড়িতে রূপান্তর সম্ভব।
গাড়িগুলোর মধ্যে রেঞ্জ রোভার ভোগের সম্ভাব্য মূল্য ১ কোটি ৬০ থেকে ১ কোটি ৮৫ লাখ, বিএমডব্লিউ ৬৫০আই-এর মূল্য ৬০ থেকে ৯০ লাখ, লেক্সাস এলএক্স ৫৭০-এর মূল্য ২ থেকে ৩ কোটি এবং টয়োটা ক্রাউনের মূল্য ৩০ থেকে ৪৫ লাখ টাকা।
ঘোষণায় পুরো চালানের ইনভয়েস কম দেখিয়ে মাত্র ৬ লাখ ১০ হাজার ৩০ টাকা শুল্ক-কর ধরা হয়েছিল।
কাস্টমস বিধি ২(ক) অনুযায়ী, খণ্ডিত পণ্যে পূর্ণাঙ্গ রূপের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য থাকলে তা মোটরযান হিসেবে গণ্য হয়। ফলে এটি পার্টস নয়, এসকেডি মোটরযান হিসেবে শুল্কায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
সিআইআইডি'র মহাপরিচালক মোহাম্মদ সফিউর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, 'খুচরা যন্ত্রাংশ হতে হলে পণ্য সম্পূর্ণ পৃথক থাকতে হয়। কিন্তু এখানে গাড়িগুলোকে বড় কয়েকটি খণ্ডে কেটে আনা হয়েছে, যা জালিয়াতির সুস্পষ্ট প্রমাণ।'
এসব চালানে আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২৪, আমদানি-রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৫০ ও কাস্টমস আইন ২০২৩ লঙ্ঘিত হয়েছে। সম্পূর্ণ শুল্ক-কর ও রাজস্ব ফাঁকির চূড়ান্ত পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।










