দুর্নীতি দমন, অর্থ পাচার মোকাবেলা এবং চুরি হওয়া সম্পদ ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব জসিম উদ্দিন ও যুক্তরাষ্ট্রের দুর্নীতি দমনবিষয়ক বৈশ্বিক সমন্বয়ক শেলবি স্মিথ-উইলসনের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ আলোচনা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।

পোস্টের বার্তায় বলা হয়েছে, আলোচনায় সংস্কারের জন্য প্রযুক্তিগত ও পারস্পরিক আইনি সহায়তা (এমএলএ) চুক্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোয় অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিনিময় বাড়ানোর বিষয়টিও উঠে আসে। সেই সঙ্গে স্বচ্ছতা ও সুশাসনের জন্য যৌথ অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে ক্রয় ব্যবস্থা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিচার বিভাগ ও মিডিয়ার সম্পৃক্ততা বিষয়ে বিশেষ মনোযোগ দেয়া হয় বৈঠকে।

পররাষ্ট্র সচিব জসিম উদ্দিন তার ওয়াশিংটন সফরের আগে নিউইয়র্ক সফর করেন। এ সময় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিভিন্ন ব্যুরোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কয়েকটি বৈঠক করেন তিনি। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের নতুন প্রেক্ষাপটে সম্পর্ককে জোরালো করার বার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পররাষ্ট্র সচিব জসিম উদ্দিনের আজ ওয়াশিংটন ত্যাগ করার কথা রয়েছে।

বিশ্বজুড়ে দুর্নীতি দমনে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি কৌশল হিসেবে পাচারকৃত সম্পদকে জব্দের ঘোষণা আগেই দিয়ে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর অংশ হিসেবে যেসব দেশে সম্পদ পাচার হয়েছে, তার যাবতীয় তথ্য সরবরাহ করা হবে বলেও জানিয়েছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার। যাতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মামলাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া সহজ হয়। একই সঙ্গে দুর্নীতিবাজ এবং তাদের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের নিরপেক্ষভাবে নির্মূল করতে যুক্তরাষ্ট্র অনেক আগে থেকেই বাংলাদেশ সরকারকে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে, ২০২৩ সালের ৯ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন ম্যাথিউ মিলার।

প্রায় একই সময়ে অর্থাৎ গত বছরের আগস্টের প্রথম সপ্তাহে তিনদিনের সফরে ঢাকায় এসেছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বৈশ্বিক দুর্নীতি দমন বিভাগের সমন্বয়ক রিচার্ড নেফিউর। তার সফরে দুর্নীতি দমন ও অর্থ পাচার বন্ধে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। রিচার্ড নেফিউ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাশাপাশি তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গেও বৈঠক করেন। ওই সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মাসুদ বিন মোমেন বলেছিলেন, ‘বিশ্বব্যাপী দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমকে যুক্তরাষ্ট্র অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ভবিষ্যতে এটি ব্যবসা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হতে পারে। ভবিষ্যতের বড় প্রকল্পে ফান্ডিংয়ে পরিবেশের মতো দুর্নীতিও বিবেচনায় আনা হবে।’