সাভারের আমিনবাজার এলাকায় তিতাস গ্যাসের পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কয়েকদিন ধরে গ্যাস সংকটে ভুগছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকরা। এখনো তা মেরামত করতে পারেনি সংস্থাটি। পাইপলাইন মেরামত নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ পরিস্থিতির মধ্যে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে এলএনজি সরবরাহও কমেছে। এক সপ্তাহ ধরে এলএনজি সরবরাহ কমতে থাকলেও গতকাল থেকে হঠাৎ তা প্রকট হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হাঁপিয়ে উঠেছেন রাজধানীর তিতাস গ্রাহকরা। অন্যদিকে গ্রাহকসেবা নিয়েও বেকায়দায় পড়েছে তিতাস।
তিতাস কর্তৃপক্ষ বলছে, ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইন ঠিক করতে বৃহস্পতিবার নাগাদ লেগে যেতে পারে। তবে পাইপলাইন মেরামত করার পর গ্যাসের চাপ পাওয়া যাবে কিনা তা নিশ্চিত করতে পারেননি সংস্থাটির কর্মকর্তারা। গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, গ্যাসের ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামত হলেও এলএনজি সরবরাহ ঠিক না হলে ভোগান্তি আরো বাড়বে।
তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী ইকবাল মো. নুরুল্লাহ বণিক বার্তাকে বলেন, গ্যাসের ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আগামীকাল থেকে এ সমস্যা আর থাকবে না। এলএনজি সরবরাহের বিষয়ে তিনি বলেন, এলএনজি সরবরাহ কিছুটা কমেছে এটা সত্য, তবে আগামীকাল থেকে সেটিও আর থাকবে না বলে জানিয়েছে সরবরাহকারী কোম্পানি।
তবে গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুমে গ্যাসের সরবরাহ ঠিক না রাখা গেলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে তা আগেই জানিয়েছিল গ্যাস কোম্পানিসহ সংশ্লিষ্টরা। দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ দিতে না পারলে তার প্রভাব পড়বে আবাসিক গ্রাহকদের ওপর। আবাসিকে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দিয়েই বিদ্যুৎকেন্দ্র চালাতে হবে।
পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা ২৭০ কোটি ঘনফুট, যার মধ্যে এলএনজি রয়েছে ৮৫ কোটি ঘনফুট। ২১ মার্চ পর্যন্ত জাতীয় গ্যাস গ্রিডে এলএনজি সরবরাহের পরিমাণ ঠিক থাকলেও ২২ মার্চ থেকে তা কমতে শুরু করে। গতকাল পর্যন্ত তা কমে ৫৭ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। অর্থাৎ গত কয়েকদিনের মধ্যে ২৭ কোটি ঘনফুট এলএনজি কম যাচ্ছে। এর মধ্যে ১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস কম পাচ্ছে তিতাস। বাকি ১৭ কোটি ঘনফুট অন্য বিতরণ কোম্পানিগুলো।
এ পরিস্থিতিতে ২১ মার্চ রাতে সাভারের আমিনবাজারে তিতাসের গ্যাস লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হলে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয় সংস্থাটি। ১২ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিকল্প উপায়ে ১৬ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপলাইন দিয়ে গ্যাস সরবরাহ করছে সংস্থাটি। তাতে গ্যাস সরবরাহ করা গেলেও চাপ পাচ্ছে না গ্রাহকরা।
আমিনবাজার সালেহপুর ব্রিজ এলাকায় রাস্তা মেরামত করতে গিয়ে তিতাসের সিটি গেটের গ্যাসের পাইপলাইন ছিদ্র করে ফেলে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। এতে ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর এবং মিরপুরসহ রাজধানীর বড় একটি এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ওইদিন রাতে মেরামতের কাজ শুরু করলে এখনো তা ঠিক করতে পারেনি তিতাস।
সর্বশেষ অবস্থা জানতে চাইলে তিতাসের দুজন কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, এক্সক্যাভেটর দিয়ে বালু সরাতে গেলেই পানি চলে আসছে। তাই কাজ করা যাচ্ছে না। গতকাল একাধিকবার চেষ্টা করেও কাজ করা যায়নি।
জাতীয় গ্যাস সরবরাহ লাইনে এলএনজির সরবরাহ কমে যাওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে এলএনজি ডিভিশনের মহাব্যবস্থাপক মো. রফিকুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, এলএনজি দুর্টি টার্মিনালের মধ্যে একটির কারিগরি কাজ চলছে।











