কুড়িগ্রাম-৩ আসনে ভোটারের স্বাক্ষর জাল করায় স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা আব্দুল খালেকের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। এ ছাড়া দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় একই আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহীর মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিক।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের নাগরিক। তিনি যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ত্যাগের দাবি করলেও এর কোনো প্রমাণ জমা দেননি। দ্বৈত নাগরিকত্ব বহাল থাকায় তার মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছে। সেইসঙ্গে যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ত্যাগের উপযুক্ত প্রমাণ জমা দিতে তাকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে।
একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল খালেক তার আসনের মোট ভোট সংখ্যার ১ ভাগের যে স্বাক্ষর জমা দিয়েছিলেন, বাছাইয়ে তাতে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। দৈবচয়ন পদ্ধতিতে ভোটারদের স্বাক্ষর যাচাইয়ের সময় ১০ জন ভোটারের মধ্যে ৩ জনের জাল স্বাক্ষর প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এ জন্য তার মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এ দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র স্থগিত ও বাতিলের বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি।
কুড়িগ্রামের ৪টি সংসদীয় আসনে প্রার্থীদের জমা দেয়া মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের আজ দ্বিতীয় দিন। সকালে কুড়িগ্রাম-৩ আসনের আর বিকেলে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের মনোনয়ন পত্র বাছাই করা হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার কুড়িগ্রাম-১ ও কুড়িগ্রাম-২ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই করা হয়। বাছাই শেষে কুড়িগ্রাম-২ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য পনির উদ্দিন আহমেদ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমানের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তবে অবৈধ ঘোষণা করা প্রার্থীরা আপিলের সুযোগ পাবেন বলে জানানো হয়েছে।
কুড়িগ্রামের ৪টি সংসদীয় আসনে মোট ৩০টি মনোনয়নপত্র জমা হয়। এর মধ্যে ২৬টি বৈধ ঘোষণা করেছেন জেলা রির্টার্নিং কর্মকর্তা।















