হজের
বিমানভাড়া বৃদ্ধির সাতটি কারণ তুলে ধরে একটি প্রতিবেদন ধর্ম মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিকে দিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।
পরে কমিটির বৈঠকে প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা হয়। কমিটির বৈঠক থেকে হজযাত্রীদের বিমানভাড়া কমানোর সুপারিশ করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এবার হজযাত্রীদের বিমানভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৭
হাজার ৭৯৭ টাকা। এটি কমিয়ে ১ লাখ ৫০
হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদীয় কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দেয়া প্রতিবেদনে মুদ্রার বিনিময় হার বৃদ্ধির তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপকভাবে ডলার ও রিয়ালের বিনিময় হার বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২২ সালে হজের সময় ডলারের বিনিময় হার ছিল ৮৫ টাকা ১০ পয়সা এবং এ বছর তা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০৬ টাকা। যা গত বছরের থেকে ২৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেশি। যার ফলে বিমানের ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান হজের সর্বমোট ভাড়া ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৭ টাকা। এর মধ্যে মূল ভাড়া ১ লাখ ৮৩ হাজার ৯১০ টাকা (১৭৩৫ ডলার) এবং ট্যাক্স ১১ হাজার ২৩৭ টাকা।
প্রতিবেদনে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিমানের জ্বালানি তেলের মূল্য গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বভাবতই বিমানের ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রতিবেদনে বিমান পরিচালনা ব্যয় বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে বিমান পরিচালনার বেশির ভাগ ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় বিমানের ভাড়া বেড়েছে।
এছাড়া ট্যাক্স বৃদ্ধিকে একটি কারণ হিসেবে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব ও বাংলাদেশে বিভিন্ন ট্যাক্সের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিমানের ভাড়া বেড়েছে।
ভাড়া বৃদ্ধির অন্য যে কারণটি বলা হয়েছে সেটি হলো একমুখী পরিবহন। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, হজ পরিচালনার সময় বিমানকে একমুখী যাত্রী পরিবহন করতে হয়। যেমন প্রি হজে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে এবং পোস্ট হজে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে বিমানকে কোনো যাত্রী ছাড়াই ফেরি ফ্লাইট পরিচালনা করতে হয়। সেজন্য বিমানের ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিবেদনে সুযোগ ব্যয়কে ভাড়া বৃদ্ধির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। হজ যাত্রী পরিবহনের জন্যে বিমান তার অন্যান্য রুটের ফ্লাইট বাতিল, কম ধারণক্ষমতার ফ্লাইট পরিবহন এবং ফ্লাইটের সময়সূচিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হয় বিধায় বিমানের আয় হ্রাস পায় এবং বিভিন্ন অতিরিক্ত ব্যয়ের সম্মুখীন হতে হয়। ফলে বিমানের ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্য আনুষঙ্গিক ব্যয়ের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, সুষ্ঠুভাবে হজ যাত্রী পরিবহনের জন্যে বিমানকে বাংলাদেশ ও সৌদি আরব উভয় প্রান্তে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপকরণের ব্যবস্থা করতে হয় বিধায় ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে।
বৈঠকে পবিত্র হজ প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়। এর আগেই বিমানভাড়া বাড়ানোর যৌক্তিকতা সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল সংসদীয় কমিটি।
বৈঠক শেষে ধর্ম মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী জানান, বিমানের পক্ষ থেকে বৈঠকে ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। তবে তিনিসহ কমিটির সদস্যরা বলেন, হজ পবিত্র ধর্মীয় বিষয়। এখানে ব্যবসা বা লাভের বিষয় চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। প্রয়োজনে বিমানভাড়ায় ভর্তুকি দেয়া যায়।










