ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা মহাত্মা গান্ধীর হাতে লেখা বিরল কিছু নোট মুম্বাইয়ের একটি নিলামে ১৬ লাখ ৯০ হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছে। বাংলাদেশী মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২১ কোটি টাকা। কোনো ভারতীয় ঐতিহাসিক নথির নিলামে এটিই সর্বোচ্চ বিক্রয়মূল্য বলে জানিয়েছে নিলামকারী প্রতিষ্ঠান স্যাফরনআর্ট।
নোটগুলোর সংগ্রহে রয়েছে সত্য, অহিংসা ও আত্মসংযম নিয়ে গান্ধীর হাতে লেখা ৬৮৮টি বার্তা। ১৯৪৪ থেকে ১৯৪৬ সালের মধ্যে এগুলো লিখেছিলেন তিনি। নথিগুলো এতদিন সংরক্ষণ করেছে গান্ধীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও স্বাধীনতা সংগ্রামী আনন্দ টি হিঙ্গোরানির পরিবার।
হিঙ্গোরানির স্ত্রী বিদ্যার মৃত্যুর পর প্রায় দুই বছর ধরে তাকে নিয়মিত লিখেছিলেন গান্ধী। ব্যক্তিগত শোক কাটিয়ে উঠতে সান্ত্বনা, দিকনির্দেশনা ও উৎসাহ দিয়ে এসব বার্তা পাঠিয়েছিলেন তিনি। পরে বার্তাগুলো ‘এ থট ফর দ্য ডে’ নামের একটি বইয়ে সংকলিত হয়।
স্যাফরনআর্টের সহপ্রতিষ্ঠাতা দীনেশ ভাজিরানি বলেন, এ সংগ্রহের মাধ্যমে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্কের আলোকে গান্ধীকে দেখার সুযোগ পাওয়া যায়। নোটগুলো তার রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে থাকা ব্যক্তি গান্ধীর জীবন ও চিন্তার একটি অন্তরঙ্গ চিত্র তুলে ধরে।
‘গান্ধী: ফ্রম দ্য কালেকশন অব আনন্দ টি হিঙ্গোরানি’ শিরোনামে স্যাফরনআর্টের ৮৬টি লটের নিলামে হাতে লেখা নোটগুলোই ছিল প্রধান আকর্ষণ। কয়েক প্রজন্ম ধরে হিঙ্গোরানি পরিবারের সংরক্ষণ করা চিঠি, পাণ্ডুলিপি, আলোকচিত্র এবং গান্ধীর ব্যবহৃত ব্যক্তিগত সামগ্রীও নিলামে তোলা হয়।
পুরো সংগ্রহটি দুই দশকের বেশি সময়ের ইতিহাস ধারণ করে। এতে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের পাশাপাশি গান্ধী ও হিঙ্গোরানির বন্ধুত্বের বিভিন্ন দিক উঠে এসেছে। ভাজিরানির মতে, এসব ব্যক্তিগত লেখায় গান্ধী জনসমক্ষে প্রচার করা নীতিগুলো নিজের জীবনে কীভাবে অনুসরণ করতেন, তার বিরল প্রমাণ পাওয়া যায়।
নিলামে তোলা অন্য সামগ্রীর মধ্যে ছিল ঈশ্বর ও হিন্দু ধর্মগ্রন্থ ‘ভগবদ্গীতা’ নিয়ে গান্ধীর লেখা নোট, তার বহনযোগ্য চরকা এবং চরকায় সুতা কাটাকে আধ্যাত্মিক অনুশীলন হিসেবে বর্ণনা করা দুটি চিঠি।
স্যাফরনআর্ট ক্রেতার পরিচয় প্রকাশ করেনি। তবে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ঐতিহাসিক নোটগুলোর সংগ্রহ ভারতেই থাকবে।










