শঙ্কায় আর শশব্যস্ত সময় পেরিয়ে হাঁফ ছেড়ে উঠেছে সবাই। সেই নব আনন্দে গাছে গাছে ডেকে যাচ্ছে পাখি। বিরাজ করছে একটা শান্ত সুনিবিড় পরিবেশ। এর মধ্যে সপ্তডিঙার বহর তুলে ১৪ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর লালমাটিয়ার ভূমি গ্যালারিতে শুরু হয়েছে ‘ওয়ান স্কয়ার স্টোরিজ’, যা শিল্পপ্রাণ হৃদয়ের কাছে প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির যোগ। বরণ্য শিল্পী ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুন নবী প্রধান অতিথি ছিলেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। দলগত এ আয়োজনে অংশ নিয়েছেন ২০ জন চিত্রশিল্পী। প্রত্যেকের পাঁচটি করে কাজ দিয়ে সাজানো হয়েছে লালমাটিয়ার ডি ব্লকের ৬/৪ নম্বর বাড়ির দেয়াল।

এ প্রদর্শনীর একটা বৈশিষ্ট্য প্রত্যেকের শিল্পকর্ম এক বর্গফুট ক্যানভাসে আঁকা। ক্যানভাস ছোট হলেও ছবির গল্পগুলোর যেন শেষ নেই। শিল্প মানুষের চিন্তা, সমাজ ও সময়ের প্রতিনিধি। গ্যালারি প্রাঙ্গণে দেখা হলো নবীন শিল্পী হাশেম সারওয়ারের সঙ্গে। তার অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সব কাজ পাশাপাশি রাখা হয়েছে, সেখান থেকে অগ্রজ শিল্পীদের কাজের টেকনিকটা শেখার আছে, আরো অনেক কিছু আছে।’

35

গ্যালারি ঘুরে ঘুরে দেখছি। ঘনবসতিপূর্ণ নগরের ছবির কাছে থমকে দাঁড়ালাম। অট্টালিকার ওপর ছুড়ে দেয়া হয়েছে একটি লাল মুলা। ছবিটি যেন কথা বলে। সচেতন করে দেয়। নগরায়ন আমাদের সামনে মুলা ধরে রেখেছে। আর আমরা নির্বিবাদে পরিবেশ ধ্বংস করেছি সুখের প্রত্যাশায়। ছবিটি নানা কিছুর ইঙ্গিত করে। এ ছবিগল্পের কারিগর আব্দুল্লাহ আল বশির। চিত্রকর্মগুলোয় কত যে গল্প লুকিয়ে আছে!

শুধু ছবিতেই গল্প থাকে না। গ্যালারি প্রাঙ্গণেও সৃষ্টি হয় গল্প। পাশের কক্ষে গিয়ে দাঁড়াতেই দেখা হলো শিল্পী বিপুল শাহর সঙ্গে। তিনি আচমকা সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে জয়ী এক সংসদ সদস্যের নাম উচ্চারণ করে বলে ওঠেন, ‘এই হাঁসের খবর অমুকে জানেন?’ তার কথা শুনে অপ্রস্তুতভাবেই ছবিটির দিকে তাকাই। তখন এ শিল্পীর কৌতুকটির বোধোদয় ঘটে। এ রকম অসংখ্য জীবনের গল্প খুঁজে পাওয়া যাবে এ গ্যালারির দেয়ালে। চিত্রকর্ম দেখা শেষ হলে শিল্পী বিপুল শাহর কাছে মতামত জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সব কাজের মধ্যেই একটা উৎসবের আমেজ ছড়ানো আছে। কালার হোক, বিষয়বস্তু হোক, একটা যোগসাজশ রয়েছে।’

36

ভূমি গ্যালারির নির্বাহী প্রধান সাইফুর রহমানের কাছে এ প্রদর্শনী সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শিল্পকর্মকে শুধু বিত্তবান ও সংগ্রাহকদের মধ্যে সীমিত না রেখে তা প্রতিটি আগ্রহী মানুষের কাছে পৌঁছাতে ছোট ক্যানভাসের চিত্রকর্ম প্রদর্শন করা হয়েছে।’

37

এক বর্গফুটের গল্প সিরিজের দলীয় এ প্রদর্শনীতে যাদের কাজ স্থান পেয়েছে: মোহাম্মদ ইউনুস, জামাল আহমেদ, রণজিৎ দাস, আহমেদ সামসুদ্দোহা, কনকচাঁপা চাকমা, মোহাম্মদ ইকবাল, মাহমুদুর রহমান দীপন, শায়লা আখতার, আজমীর হেসেন, সাদেক আহমেদ, কামাল উদ্দিন, আব্দুস সাত্তার তৌফিক, এমএম মাকসুদ বিপ্লব, আব্দুল্লাহ আল বশির, কামরুজ্জোহা, শহিদ কাজী, মঞ্জুর রশিদ, নাজমুল হক বাপ্পি, আজমল হোসন ও জয়ন্ত মণ্ডল।

১৪ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এ প্রদর্শনী চলবে আগামী ১৪ মার্চ পর্যন্ত। প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।